মূল লেখায় যান

ফিতরা কত টাকা: পরিবারের ফিতরা হিসাব

এ বছর জনপ্রতি ফিতরা কত, আর পুরো পরিবারের জন্য মোট কত দিতে হবে দেখুন। গম, যব, খেজুর, কিশমিশ বা পনির, যেটার হিসাবে দেবেন বেছে নিন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত হার বসানো আছে।

এ বছর ফিতরা জনপ্রতি কমপক্ষে ৳ ১১০। সামর্থ্য থাকলে ৳ ২,৮০৫ পর্যন্ত দেওয়া যায়।

১. কতজনের ফিতরা দেবেন?

নিজেসহ পরিবারের যাদের হয়ে আপনি দিচ্ছেন

৪জন
২. জনপ্রতি কত টাকা করে দেবেন?

নিচের পাঁচটা খাবারের যেকোনো একটার দাম ধরে দেওয়া যায়। সবচেয়ে কমটা দিলেই ফিতরা আদায় হয়।

আপনার পরিবারের মোট ফিতরা
৳ ৪৪০
৪ জন × ৳ ১১০

সহজ কথায় ফিতরা

  • ঈদের আগে গরিব মানুষকে দেওয়া দান, পরিবারের প্রত্যেকের হয়ে।
  • যার কাছে ঈদের সকালে প্রয়োজনের বাইরে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দামের সমান টাকা বা সম্পদ আছে, তাকে দিতে হয়। এখনকার দামে সেটা প্রায় ৳ ২,৫৪,০০০। এখানে শুধু জমানো টাকা না, সোনা-রুপা আর দরকারের বাইরে থাকা জমি বা জিনিসের দামও ধরা হয়। এক বছর জমা থাকার দরকার নেই।বাজুসের ২২ ক্যারেট রুপার দামে, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। রুপার দাম বদলালে এটাও বদলায়, তাই কাছাকাছি থাকলে যাকাত ক্যালকুলেটরে নিজের হিসাব মিলিয়ে নিন।
  • নিসাব না থাকলেও ফিতরা দেওয়া যায়, তাতে সওয়াবও আছে। বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি মতে নিসাব থাকলে ফিতরা ওয়াজিব। শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মতে ঈদের দিনের খাবারের বাইরে কিছু থাকলেই দিতে হয়, তাই অনেকে সবসময় দিয়ে আসেন।
  • ঈদের নামাজের আগেই দিয়ে দিন। রমজানের মধ্যে দিলে গরিবরা ঈদের বাজার করতে পারেন।
টাকার হার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরি)। গম বা আটা জনপ্রতি ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম, বাকিগুলো ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ধরে বাজারদরে এই টাকা ঠিক করা। প্রতি বছর রমজানে নতুন হার ঘোষণা হলে এখানে হালনাগাদ করা হবে। নির্দিষ্ট প্রশ্নে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

এ বছর ফিতরা কত?

জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির হারে জনপ্রতি গম বা আটায় ১১০ টাকা, যবে ৫৯৫, খেজুরে ২,৪৭৫, কিশমিশে ২,৬৪০ আর পনিরে ২,৮০৫ টাকা। নতুন বছরের হার ঘোষণা হলে এখানে হালনাগাদ হবে।

ফিতরা কার উপর ওয়াজিব?

বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি মতে, ঈদের দিন ভোরে যার কাছে নিত্যপ্রয়োজনের বাইরে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দামের সমান সম্পদ থাকে। নগদ টাকার সাথে সোনা-রুপা আর দরকারের বাইরে থাকা জিনিসের দামও ধরা হয়। যাকাতের মতো এক বছর রাখার শর্ত নেই।

নিসাব না থাকলে কি ফিতরা দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, দেওয়া যায় এবং সওয়াব আছে। শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মতে ঈদের দিনের খাবারের বাইরে কিছু থাকলেই ফিতরা দিতে হয়। তাই অনেকে নিসাব না থাকলেও প্রতি বছর ফিতরা দেন, সেটা ভালো কাজ।

কখন দিতে হয়?

ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে দেওয়া উত্তম। রমজানের মধ্যে আগেও দেওয়া যায়, যাতে গরিব মানুষ ঈদের আগে কাজে লাগাতে পারেন।

কোন জিনিসের হিসাবে দেব?

পাঁচটার যেকোনো একটা। যার সামর্থ্য আছে, তার জন্য দামি জিনিসের হিসাবে দেওয়া উত্তম বলে আলেমরা বলেন।

আরও কিছু দরকারি টুল